August 9, 2026, 8:39 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় টইটংয়ের সেই নাছির উদ্দিনের পক্ষে একাট্টা হয়েছে গ্রামবাসী। সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ সময় শত শত লোকজন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে।
৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বটতলী জুমপাড়া ষ্টেশনে এক অনির্ধারিত প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। এ সময় ২শতাধিক গ্রামবাসীরা জড়ো হন। উপজেলার সীমান্তবর্তী টইটং ইউনিয়নে জুমপাড়ায় গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে নাছির উদ্দিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছে। সুত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সংবাদ প্রকাশ ও লেখালেখি হয়েছে।
টইটংয়ের সোনাইয়াকাটার নাছির উদ্দিনকে নিয়ে মূলত এ সব প্রকাশ হয়েছে। বলা হয়েছে নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে পাহাড়ে মানুষের জায়গা জমি জবর দখল করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন মানুষ জনকে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এ সম্পর্কিত সংবাদ স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এ দিকে ওই সংবাদ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে গ্রামের মানুষ সোচ্চার ও প্রতিবাদ মুখর হন।
এর সুত্র ধরে ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) টইটংয়ের উত্তরপ্রান্ত বাঁশখালী ও পেকুয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম বটতলী জুমপাড়ায় এক প্রতিবাদ অনির্ধারিত সমাবেশ হয়েছে। জুমপাড়া ষ্টেশনে ওই সমাবেশে প্রায় ২শতাধিক মানুষ জড়ো হয়েছে। এ সময় পেকুয়ার কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন টইটং ইউপির ১ নং সদস্য আবুল কাশেম। তিনি জানান, সম্প্রতি যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। নাছির উদ্দিন অন্যায়ভাবে কারো জায়গা জমি জবর দখল করেননি। বাঁশখালী থেকে ভাড়াটে লোকজন এনে গুটিকয়েক ব্যক্তি এলাকার স্বার্থের উপর আঘাত হানতে প্রচেষ্টা চালায়।
নাছির স্থানীয়দের পক্ষে বহিরাগতদের দমাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তার এ উদ্যোগের জন্য আমরা প্রেরণা পেয়েছি। যারা সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছে এরা নাছিরের পূর্ব থেকে শত্রু। এলাকার সম্প্রীতি ঐক্য বিনষ্টকারীরা নাছির ও আরো কিছু নিরীহ লোকজনকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে।
অবিভক্ত বারবাকিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল কবির জানান, আসলে এ ধরনের কোন ঘটনা এখানে সংঘটিত হয়নি। নাছির অসহায় মানুষের পক্ষে কথা বলছেন বলে এ সব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অস্ত্র নিয়ে এসে আমাকে অপহরণ চেষ্টা করে। জয়নাল ও হামিদুল হক নামক ব্যক্তিরা ভাড়াটে অস্ত্রধারী এনে আমাদের উপর জুলুম অত্যাচার করছে। যা এমপি মহোদয়, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম অবগত। চেয়ারম্যান এলাকায় না থাকার পর থেকে জুলুমবাজরা একাট্টা হয়েছে। একজন অসহায় মহিলার জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করেছে।
নাছির ওই মেয়ের পক্ষে প্রতিবাদ করেছে। সেটি তার অপরাধ। মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী পূর্ব টইটংয়ের রাশেদা বেগম (৫০) বলেন, ২০০৪ সালের বাগানে আমরা ১৫ জন উপকারভোগী আছি। এক হেক্টর করে জায়গার উপকারভোগী হই। ১৪ জন জায়গা ভোগ করছে। কিন্তু আমার জায়গা বেদখল হয়েছে। নাছির আমার মামাতো ভাই। তাকে বিষয়টি বলি। তিনি আমার পক্ষে প্রতিবাদ করেছে। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এ ভাবে হলে অসহায়ের পক্ষে কে প্রতিবাদ করবে। খুইন্নাভিটার ব্যবসায়ী হাকিম আলী ও আবু তালেব বলেন, নাছিরের কোন অপরাধ নেই। বিদেশ থেকে এসে বাড়িতে অবস্থান করছে। এখন কারো পক্ষে প্রতিবাদ করলেও দোষ হয়ে যায়।
জুমপাড়ার আবদু রহিম, ফয়জুল হক সওদাগর, ডা: আবদুল জলিল বলেন, আসলে রং ছিটানো। মধ্যম রিজার্ভপাড়ার আবু মিকার, গৃহবধূ কুলসুমাসহ আরো অনেকে জানান, বহিরাগত লোকজন এনে যারা জুলুম করে এরাই মূলত নাছির ও হামিদকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। সোনাইয়াকাটার আবুল বশর কালু, শাকের আহমদ ও ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য টিপু সোলতান জানান, সংবাদটি মিথ্যাভাবে হয়েছে। নাছির অপরাধের সাথে জড়িত নন। মানুষকে ভাল হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
নাছিরের স্ত্রী রহিমা বেগম, ছেলে জিএমসির দশম শ্রেনীর ছাত্র মো: আরমান জানান, আমরা এ ধরনের সংবাদে খুবই মর্মাহত হয়েছি। একজন মানুষের জানমাল ও ইজ্জত নষ্ট করার জন্য চক্রান্তকারীরা এ ধরনের ধারাবাহিক মিথ্যাচার করছে।